নারায়ণগঞ্জে করোনার সংক্রামন বেড়েই চলছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলায় চিকিৎসাধীন করোনা রোগী বেড়েছে ৪১২ জন। গত ২১ জুন সংক্রামণের হার ছিল ৬.৭১ শতাংশ। ৩০ জুন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২০.২৩ শতাংশ। এতে গত ১০ দিনে সংক্রামণের হার বেড়েছে ১৪ শতাংশ। একই সাথে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। চিকিৎসাধীন রোগী বাড়ার হার ১৫২ শতাংশ।
এ বিষয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার চলমান ঢেউয়ে দৈনিক শনাক্ত বেশি হচ্ছে। সুস্থ হওয়া রোগীর চেয়ে শনাক্ত কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সক্রিয় রোগী বাড়ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, এ বছরের প্রথম দুই মাসে সংক্রমণের গতি ধীর ছিল। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। এপ্রিল মাসে দুটিই মহামারি রূপ ধারণ করে।। মে মাসে সংক্রমণের হার কিছুটা হ্রাস পেলেও জুন মাসে পুনরায় বেড়েছে সংক্রামণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৬৯ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১৩ হাজার ৯৯০ জন। তবে নতুন করে কোন মৃত্যু নেই। মৃত্যুর সংখ্যা ২২৩ জনেই আছে। এছাড়া এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ১৩ হাজার ২৭৯ জন। মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪১ জনের। তবে বিগত ১০ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪১২ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১৫ জন।
করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট শনাক্ত রোগীর চেয়ে সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিলে জেলায় ৩০ জুন চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৪৮৮ জন। ১০দিন পূর্বে, জুন মাসের ২০ তারিখে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ১৯৪ জন। এতে চিকিৎসাধীন রোগী বাড়ার হার ১৫২ শতাংশ।
খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সূত্রমতে, হাসপাতালে করোনার রোগীদের জন্য ১১২টি শয্যা রয়েছে। ১০০টি সাধারন বেডের পাশাপশি রয়েছে ১০টি আইসিইউ শয্যা ও ২ টি ডিডিইউ শয্যা। ৩০ জুন হাসপাতালে ৪৩ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছে ৫ জন।
এ বিষয়ে জেলার করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পারসন ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনায় সংক্রামণের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কলকারখানা খোলা থাকলেও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।