
জসীমউদ্দিন: কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক ও সমাজসেবক মোঃ মামুন হোসেন সমকালীন নারায়ণগঞ্জের একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। সাহিত্য, সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর নিরলস অবদান তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নারায়ণগঞ্জের গোগনগর (বাড়ির টেক) এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর পিতা আলহাজ্ব মৃত মোঃ জহির হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, অধ্যবসায়ী ও সংগ্রামী একজন শিক্ষার্থী। জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহই পরবর্তী জীবনে তাঁকে সাহিত্যচর্চা ও গবেষণামূলক লেখালেখির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।তিনি সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক, নারায়ণগঞ্জ কলেজ থেকে স্নাতক (বিএ), সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) এবং প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই সমৃদ্ধ শিক্ষাজীবনই সাহিত্য ও সাংবাদিকতার বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
লেখালেখির ক্ষেত্রে মোঃ মামুন হোসেন ইতোমধ্যে দুই শতাধিক প্রবন্ধ এবং দুই শতাধিক কবিতা রচনা করেছেন। এর মধ্যে দেড় শতাধিক প্রবন্ধ ও ৭০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর লেখায় সমাজ-বাস্তবতা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সমকালীন নানা বিষয় গভীরভাবে উঠে আসে। তাঁর ক্ষুরধার লেখনী, যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ এবং সাহসী অবস্থান পাঠকমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত।২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ “জীবনের বর্ণিল ক্যানভাস”। উচ্ছ্বাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ১২৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে ৪৭টি প্রবন্ধ-নিবন্ধ। গ্রন্থটির প্রতিটি রচনা চিন্তাশীল পাঠকের মননে নতুন ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করে।সাংবাদিকতায়ও তিনি সফলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
বর্তমানে তিনি সাপ্তাহিক মুক্ত আওয়াজ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক রুদ্রবার্তা-এর সহ-সম্পাদক এবং দৈনিক রুদ্রকণ্ঠ-এর সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর লেখালেখি ও জনসম্পৃক্ততা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানবিক মানুষ। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। মানবকল্যাণে তাঁর আন্তরিকতা, উদারতা এবং সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য “কাব্যছন্দ ইনস্পায়ার অ্যাওয়ার্ড–২০২৫”, যা তিনি প্রাবন্ধিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য অর্জন করেন।তাছাড়া তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। ২০১৭ সালে সিএনএম নজরুল পদক ও মানবাধিকার পদক। ২০২০ সালে ‘মুজিবশতবর্ষ আনন্দধাম সাহিত্য সম্মাননা’ এবং ২০২৫ সালে ‘প্রোগ্রেসিভ জার্নালিস্ট সমাজসেবা সম্মাননা’ পেয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্যিক ও মানবিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ছাত্র কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, কলকণ্ঠ সাহিত্য ফোরামের চেয়ারম্যান, শব্দমৈলী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি, সাহিত্য রিপোর্টার্স ক্লাবের তথ্য, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক, ধ্রুব সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা,
জিনিয়াস বৃত্তি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাহিত্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং বৈষম্যমুক্ত মানবিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির সহসাধারণ সম্পাদক এবং
আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সাবেক সদস্য ছিলেন।
তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ত নগরজীবন, মানুষের হাসি-কান্না, পাওয়া-না পাওয়া, শৈশবের স্মৃতি আর সময়ের নীরব ক্ষত—এসবের ভেতর থেকেই শব্দ খুঁজে নেন মোঃ মামুন হোসেন। তিনি শুধু সাংবাদিক নন, একজন কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষ; তাঁর লেখার মূল সুরে বারবার ফিরে আসে মানুষ ও মানবিকতার কথা।সাংবাদিকতার পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্যকে তিনি কখনো দূরে সরিয়ে রাখেননি। বরং সংবাদজগতের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যচর্চাকে দিয়েছে জীবনের কাছাকাছি থাকার শক্তি। সমাজের অসংগতি, মানুষের সংকট, মূল্যবোধের অবক্ষয়, বৈষম্য কিংবা নাগরিক জীবনের নানা অনিশ্চয়তা তাঁর কলমে কখনো প্রতিবাদের ভাষা পেয়েছে, কখনো পেয়েছে গভীর আত্মজিজ্ঞাসা।তাঁর লেখার আরেকটি বড় শক্তি স্মৃতি। শৈশবের গ্রাম, পরিচিত পথ, প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, হারিয়ে যাওয়া মানুষ ও সময়—এসব তাঁর মনে যেন এখনো জীবন্ত। তাই তাঁর লেখায় অতীত কেবল স্মৃতিচারণ নয়; অতীত হয়ে ওঠে বর্তমানকে বোঝার একটি আয়না।‘জীবনের বর্ণিল ক্যানভাস’ গ্রন্থেও জীবনের নানা রং, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার সেই প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর লেখায় কৃত্রিমতার চেয়ে জীবনের সরল সত্য, বাহুল্যের চেয়ে অনুভব এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় বেশি স্পষ্ট।নারায়ণগঞ্জের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাও তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। সাহিত্যিকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাহিত্যচর্চার পরিবেশ তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে লেখালেখির প্রতি আগ্রহী করে তোলার প্রচেষ্টায় তিনি সক্রিয়।মোঃ মামুন হোসেনের পথচলা তাই কেবল একজন সাংবাদিকের পেশাগত যাত্রা নয়; এটি শব্দের মধ্য দিয়ে মানুষকে খোঁজার এক নিরন্তর প্রয়াস। তাঁর কলম কখনো প্রশ্ন করে, কখনো প্রতিবাদ জানায়, আবার কখনো নিঃশব্দে ফিরে যায় শৈশবের উঠোনে—যেখানে স্মৃতি, মাটি ও মানুষের ভালোবাসা আজও অমলিন।নারায়ণগঞ্জের সাহিত্যভুবনে তাঁর এই বহুমাত্রিক পথচলা নিঃসন্দেহে সময়ের একটি স্বতন্ত্র স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।সাহিত্য, সাংবাদিকতা, মানবসেবা এবং সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নকে ধারণ করে মোঃ মামুন হোসেন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর বিশ্বাস—কলম কেবল লেখার মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও সত্যনিষ্ঠার সমন্বয়ে তিনি আগামী দিনেও বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন—এমন প্রত্যাশাই সকলের।