
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন নথি—যা এখন “এপস্টিন ফাইলস” নামে পরিচিত—বিশ্বজুড়ে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এসব ফাইলে উঠে এসেছে প্রভাবশালী রাজনীতিক, ধনকুবের, রাজপরিবারের সদস্য ও তারকাদের নাম। ফলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অপরাধচক্র কীভাবে দীর্ঘদিন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল? আইনি সতর্কতা: এখানে যেসব নাম এসেছে, তারা কেউই আদালতে দোষী প্রমাণিত নন; নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে, যিনি দাবি করেন অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে যৌন পাচারের শিকার হতে হয়েছে; মারিয়া ফার্মার, যিনি ১৯৯০-এর দশকে প্রথম অভিযোগকারী; সারা র্যানসম, যিনি পাচার নেটওয়ার্কের অভিযোগ করেন; এবং কোর্টনি ওয়াইল্ড, যিনি ভুক্তভোগীদের আইনি অধিকার নিয়ে লড়াই করেন। নথিতে যাদের নাম উল্লেখ রয়েছে (অভিযোগ বা যোগাযোগের সূত্রে, দোষ প্রমাণ নয়) তাদের মধ্যে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু, বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, অ্যালান ডারশোভিৎজ, লেস ওয়েক্সনার, গ্লেন ডুবিন এবং এহুদ বারাক। বিল গেটস প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টিনের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক হয়; গেটস এটিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে স্বীকার করলেও কোনো অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টিন কেবল একজন অপরাধী নন—তিনি ছিলেন একটি ক্ষমতাবান নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে প্রভাব ও অর্থ বিচার এড়ানোর দেয়াল তৈরি করেছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—এই ফাইলগুলো কি সত্যিই ক্ষমতাবানদের মুখোশ খুলে দেবে, নাকি আবারও সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে?