রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নাসিকের ১৭’শ কোটি টাকার এডিবি প্রকল্প অনুমোদন ১৬ কোটি টাকার স্ট্রিট লাইট প্রকল্পেও অন্ধকারে লিংক রোড ভূমি সেবায় ডিজিটাল রূপান্তর: একযোগে পরিদর্শন অভিযান শুক্কুর মাহমুদ জুয়েল এর “তুমি যদি না আসো” কাব্যগ্রন্থ’র পাঠ উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাহিত্য জোট নারায়ণগঞ্জ এর সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গল্লিতে জলাবদ্ধতা,  ডেঙ্গু ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে সেরা গোলাবারুদ দিয়ে হামলা হবে : ট্রাম্প সোনারগাঁয়ে ২৮ মামলার আসামি ‘কাইল্লা রক্সি’ গ্রেফতার আমি সকল নাগরিকের প্রশাসক হতে চাই: নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হকার উচ্ছেদে একমত রাজনৈতিক নেতারা, উঠেছে পুনর্বাসনের দাবিও

১৬ কোটি টাকার স্ট্রিট লাইট প্রকল্পেও অন্ধকারে লিংক রোড

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫.৫৫ এএম
  • ০ বার পড়া হয়েছে

রাতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে (লিংক রোড) ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কবাতি স্থাপন করা হলেও সুবিধা পাচ্ছে না মানুষ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত এ সড়কটির বড় একটি অংশ থাকছে অন্ধকারে। এমনকি জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের সামনেও সড়কবাতিগুলো অকেজো হয়ে আছে।

এতে বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা, ভুক্তভোগী হচ্ছেন সড়কটিতে নিয়মিত চলাচল করা পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। এমনকি সড়কে দুর্ঘটনাও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

তবে, সড়ক বিভাগ বলছে, সড়কবাতিগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ তার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। একাধিকার তা প্রতিস্থাপন করা হলেও পুনরায় তা চুরি হয়ে যায়। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তবে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুতই এসব সড়কবাতির সংযোগ তার প্রতিস্থাপন করা হবে এবং সেগুলো যাতে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়েও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পরিষদের সামনের অংশসহ সড়কের একাধিক এলাকা রাত হলেই ঘন অন্ধকারে ডুবে যায়। সাইনবোর্ড থেকে এসবি গার্মেন্টস, জালকুড়ি থেকে শিবু মার্কেট এবং রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানে সড়কবাতি অচল থাকায় জননিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এসব স্থানেই ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একলেনের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কটি মূলত লিংক রোড বলেই অধিক পরিচিত। একলেনের সড়কটি কয়েকবছর আগে ছয়লেনে উন্নীত করা হয়। সাড়ে চারশ’ কোটি টাকারও বেশি অর্থব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটিতে সড়কবাতি ও সাইন সিগন্যাল স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা।

তবে, বিপুল এই অর্থব্যয়ের কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না মানুষজন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, সড়কবাতির বৈদ্যুতিক তার চুরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব বাতি বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে নতুন সংযোগ দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বারবার তার চুরি হচ্ছে। প্রতিবার নতুন তার স্থাপন করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার চুরি হয়ে যাচ্ছে, ফলে স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে ৭৪৮টি সড়কবাতি স্থাপন করা হলেও এর বড় একটি অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে রাতের বেলায় পুরো সড়কজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার, যা যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অন্ধকার অংশগুলোতে ছিনতাই, চুরি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা ইশতিয়াক অনিক জানান, “রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ইউ-টার্নে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং রাতে আলো না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”

জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনেই এমন পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সড়কবাতি মেরামত নয়, তার চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, “সড়কবাতিগুলো স্থাপনের কয়েকদিন পরে খেয়াল করলাম সেগুলো আর জ্বলছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো- বাতির সঙ্গে সংযুক্ত সোর্স লাইনের তারগুলো চুরি গয়ে গেছে। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।”

সাধারণ ডায়েরির পর তার চুরির ঘটনা কিছুটা কমলেও চুরি করা বন্ধ করা যায়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ঠিকাদারের মাধ্যমে তারগুলো মাসখানেক আগে পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু পরে আবার তা চুরি হয়ে যায়। এ নিয়ে পুলিশকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি কিন্তু স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাগুলো বারবার ঘটতেছে। এবং এমন জায়গা থেকেই তার চুরি হয় যেখানে ছিনতাই বেশি হয়।”

তার চুরির ঘটনার সঙ্গে ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্রের যোগসাজশ আছে বলেও মনে করেন এ প্রকৌশলী।

একাধিকবার তার চুরির ঘটনায় সরকারি অর্থেরও অপচয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

তবে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারগুলো চুরি হয়ে গেছে। নতুনভাবে তা রিপ্লেস করা হবে। একইসঙ্গে তারগুলো যাতে পুনরায় চুরি না হয় সেজন্য জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।”

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort