
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগরভবনের সামনে দাঁড়ালেই যেন চোখে পড়ে এক নির্মম বাস্তবতা। যে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা, তার অদূরেই গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সড়কের দুই পাশে দু’টি সরকারি হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কার্যালয়।
অথচ ময়লার দুর্গন্ধে এ এলাকার বাতাস সবসময় থাকে অসহনীয়। লোকজনকে সড়ক পার হতে হয় নাকে রুমাল চেপে দ্রুত গতিতে। সরকারি কর্মকর্তাদের যে সড়কটি দিয়ে রোজকার যাতায়াত সেখানে ছড়িয়ে থাকা বর্জ্যের দৃশ্য যেন পুরো শহরের অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই চিত্র শুধু একটি স্থানের নয়; বরং পুরো নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়েই এখন একই সংকট, যেখানে প্রয়োজনীয় ডাস্টবিনের অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় নগরবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে শহরের কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখেন এ প্রতিবেদক। নগরভবন থেকে মাত্র একশ গজ এগোলেই ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কে চোখে পড়ে ময়লার স্তূপ। সড়কের পাশে জমা করা এসব আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, যা পথচারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ এতোই প্রকট যে রাস্তায় চলাচলে নাকে রুমাল বা হাত চেপে রাখতে হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের সিটি করপোরেশনের হকার্স মার্কেটের সমনে এবং সিরাজউদ্দৌলা সড়কের এক নম্বর রেল গেট ও জনবহুল কালিরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে। এসব জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে ময়লা জমে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে সড়কটি প্রতিদিন ব্যবহার করেন দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ থেকে ৩ হাজার শিক্ষার্থী। এসব ময়লা থেকে গরমে মাছি ও জীবাণুর উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় স্ব্যস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন পথচারী ও আশেপাশের ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, শহরের কয়েকটি স্থানে অতীতে সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিন থাকলেও এখন আর তা নেই। ফলে রাস্তার পাশেই মাকেটের ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তূপ করে রাখছেন স্থানীয় দোকানি ও বাসিন্দারা। ফুটপাতে ব্যবসা করা হকাররাও তাদের ময়লা ফেলেন সড়কের উপরেই।
সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সকালে সড়কগুলো পরিষ্কার করলেও সারাদিনই ময়লা ফেলতে থাকায় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আবার তা ভাগাড়ে পরিণত হয়। দিনশেষে আবার পরদিন সকালে সেগুলো অপসারণ করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিকে বর্জ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার অভাব বলেই দেখছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বলেন, “কাজ শেষ করে দোকান বন্দের সময় অল্পকিছু কাগজ আর পলিথিন এগুলো রাস্তার পাশেই রেখে যাই। কারণ সকালে তো সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে পরিষ্কার করে নিয়ে যাবে।”
আব্দুল জব্বার নামে এক হকারও একই কথা জানালেন। সড়কের উপর কোনো নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় তারা রাস্তার উপরই ফেলে যান ময়লা।
এদিকে, প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার ও বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালের বর্জ্যসহ বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে এই এসব স্থানগুলোতে।
এ বিষয়ে নাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের ভরপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. সবুজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা ফোন ধরেনি।
পথচারী ও নগরবাসীরা দ্রুত পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নাসিক প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।