
তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৭৯/১০ (আবরার ০*; ফারহান ৬, সাদাকাত ৬, রিজওয়ান ৪, ঘোরি ২৯, সামাদ ৩৪, সাদ ৩৮, ফাহিম ৯, সালমান ১০৬, রউফ ১, শাহীন ৩৭)
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
সিরিজ- বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচ ও সিরিজসেরা: তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (আফিফ ৫*, হৃদয় ৪৮*; সাইফ ৩৬, শান্ত ২৭, তানজিদ ১০৭, লিটন ৪১, রিশাদ ০)
২৯১ রানের লক্ষ্যে সালমান আলী আগা সেঞ্চুরিতে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ৪৮তম ওভারে তাকে ১০৬ রানে থামান তাসকিন আহমেদ। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু শেষ দুই ওভারে যখন ২৮ রান প্রয়োজন তখনই মোস্তাফিজের ৪৯তম ওভারে দুটি ছক্কা মেরে আবারও রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির জন্ম দেন শাহীন আফ্রিদি। তার ওপর মারাত্মক চোটআঘাতও পান মোস্তাফিজ। তার পরও ওই ওভারের শেষ বলে হারিস রউফকে (১) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে খাদের কিনারে ফেলে দেন কাটার মাস্টার। নবম উইকেট পতনের পর ৬ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৪ রানের। কিন্তু শেষ ওভারে রিশাদের ঘূর্ণিতে আর পেরে উঠেননি শাহীন। স্নায়ুর লড়াইয়ে বড় শট খেলতে চেষ্টা করলেও মাত্র দুই রান নিতে পেরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তার ওপর শেষ বলে স্টাম্পড হওয়াতে পাকিস্তান ২৭৯ রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশ পেয়েছে ১১ রানের রোমাঞ্চকর এক জয়। তাতে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়েছে মিরাজদের। সর্বশেষ ২০১৫ সালের সিরিজে অবশ্য পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা।
বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ছিল তাসকিন আহমেদের। ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ৫৪ রানে তিনটি নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬২ রানে দুটি নেন নাহিদ রানা। একটি শিকার করেছেন রিশাদ হোসেন।
সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে শুরুতে তানজিদ তামিমের ১০৬ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ১৭ রানে তিন উইকেট হারিয়েই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ৬৭ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ম্যাচে প্রাণ ফেরাতে থাকেন সালমান আগা ও সাদ মাসুদ। ৭৯ রানের জুটিতে লড়াই করছিলেন তারা। সাদ মাসুদ ফিরলে তার পর সালমানের ১০৬ রানের লড়াকু সেঞ্চুরিতে জয়ের সম্ভাবনা জাগায় পাকিস্তান। তার বিদায়ের পর শাহীনের মিনি ঝড় রোমাঞ্চ ছড়ালেও বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান পরাস্ত হয়েছে।
অবশেষে সালমানকে থামালেন তাসকিন
শেষ দিকে লড়াইটা জমিয়ে তুলেছিলেন সালমান আগা। সেঞ্চুরিতে প্রান্ত আগলে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। ৪৮তম ওভারে তাকে ১০৬ রানে থামিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। মেরে খেলতে গিয়ে আগা ৯৮ বলের ইনিংস খেলে ফিরেছেন। তাতে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছয়।
ফাহিমকে ফিরিয়ে সপ্তম উইকেট তুলে নিলো বাংলাদেশ
সালমান-সাদের জুটি ভাঙলেও প্রান্ত আগলে মূল লড়াইটা চালাচ্ছিলেন সালমান আলী আগা। ফাহিম আশরাফ চেষ্টা করছিলেন সঙ্গ দিতে। কিন্তু দলের ২০৯ রানে তাকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তাতে সপ্তম উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়েছে সফরকারীরা। ফাহিম আউট হয়েছেন ৯ রানে।
সালমান-সাদের ৭৯ রানের জুটি ভাঙলেন মোস্তাফিজ
৬৭ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ম্যাচে প্রাণ ফেরাচ্ছিলেন সালমান আগা ও সাদ মাসুদ। ৭৯ রানের জুটিতে লড়াই করছিলেন তারা। কিন্তু ৩১.২ ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এই জুটি ভেঙেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৪ বলে ৩৮ রান করা সাদ মাসুদকে বোল্ড করেছেন কাটার মাস্টার। তাতে ১৬১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে পড়েছে পাকিস্তান।
সামাদকে ফেরালেন মোস্তাফিজ, ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের
তৃতীয় উইকেট পতনের পর ধাক্কা সামাল দিতে ঘোরির সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েছিলেন আব্দুল সামাদ। ঘোরির প্রতিরোধ ভাঙার পর স্থায়ী হয়নি সামাদের ইনিংসও। ১৭.৪ ওভারে সামাদকে লিটনের গ্লাভসবন্দি করান মোস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানি ব্যাটার ৪৫ বলে করেছেন ৩৪ রান। তাতে ছিল ৫টি চার।
ঘোরিকে বোল্ড করে প্রতিরোধ ভাঙলেন রানা
১৭ রানে তিন উইকেট হারানোর পর শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন অভিষিক্ত গাজি ঘোরি ও আব্দুল সামাদ। চতুর্থ উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন তারা। ১৪তম ওভারে এসে এই জুটি ভেঙেছেন নাহিদ রানা। গাজি ঘোরিকে ২৯ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। ঘোরির ৩৯ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছয়।
তাসকিন-রানার আঘাতে শুরুতেই ৩ উইকেট নেই পাকিস্তানের
২৯১ রানের লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই আঘাত হেনেছেন তাসকিন আহমেদ। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে ফিরেছেন ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান (৬)। পরের ওভারে আঘাত হানেন নাহিদ রানা। আগ্রাসী হতে চাওয়া মাজ সাদাকাতকেও গ্লাভসবন্দি করান তিনি। পরের ওভারে তাসকিন আবারও আঘাত হানলে ৩ ওভারেই বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৪ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। পাকিস্তান তৃতীয় উইকেট হারায় ১৭ রানে!