
লালমনিরহাট সদর থানার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী প্রামাণিক মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন ডেলিভারিম্যান হিসেবে । ২০১৯ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ডেলিভারিম্যান হিসেবে। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে তার বেতন বন্ধ করে দিলে কোনো উপায় না পেয়ে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন গোলাম রব্বানী প্রামাণিক
গত বছরের আগস্টে চাকরিটি ছেড়ে দেন। এর পরই যেন বিপদ ভর করে তার ওপর।ভুয়া প্রতিষ্ঠানটি তার আপন দুই উচ্চ শিক্ষিত ভাই সহ কোন রকম তদন্ত ছাড়া ও প্রমাণহীন চুরির মামলা দায়ের করে পরিবার এর কাছে ৫লাখ টাকা দাবী করে , এমন দাবিতে রাজি হলে মামলা উঠায়ে নিবে গোলাম রব্বানী প্রামাণিক এবং তার ভাইদের বিরুদ্ধে।
তার ভাই একজন ব্রাক এর অফিসার ও আরেক ভাই কলেজ এর (প্রভাষক/আইনজীবী)
শুধু গোলাম রব্বানী প্রামাণিক নন, এই নামহীন নকল ঘি কোম্পানির চাকরি করে এখন মামলার ঘানি টানছেন এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন বলেছেন, তাদের জীবনের লোমহর্ষক এক অভিজ্ঞতার কথা।
মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করা এসব কর্মী মামলা খেয়েছেন ৫ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকার। এখন জীবনের সব সঞ্চয়ের বিনিময়েও মুক্তি মিলছে না কোম্পানির জাঁতাকল থেকে। উল্টো মামলার কারণে নতুন কোনো চাকরিতেও ঢুকতে পারছেন না। তিন বেলা খাবার জোগানোটাই এখন কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের জন্য।
তাদের একজন শাহীন আলম। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ঘি ও নকল মোবিলের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। সব নিয়ম মেনে ইস্তফা দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মামলা ঠুকে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদের মতো শাহীন আলমকে ও আটকানো হয়েছে চাকরিতে যোগদানের শর্ত অনুসারে জমা দেওয়া ব্যাংক চেকের মাধ্যমে। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে তার ভাইকেও। আনা হয়েছে ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
শাহীন আলম বলেন, আমি স্বল্প বেতনে চাকরি করতাম। যে টাকার মামলা দিয়েছে, চাকরিজীবনে তার অর্ধেক টাকারও লেনদেন করিনি।এই কোম্পানি থেকে ; কিন্তু এখন উল্টো টাকা আত্মসাতের মামলা খেয়েছি। সংসার চালানোই এখন কষ্টকর।আমাকে আরো মামলার ভয় দেখায় ও প্রাননাশের হুমকি দেয় ।পরিশেষে ভিটের জমি বিক্রি করে ও ধার দেনা করে ৭লাখ টাকা নিয়ে মামলা উঠানোর অঙ্গীকার করে। ৭লাখ নেবার পর আবার মামলা উঠানোর খরচ হিসাবে আবার ১লাখ ২০হাজার টাকা দাবী করে।
তার অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার সব শর্ত পূরণ করেছি। সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এরপরও আমাদের মতো নিম্নস্তরের কর্মচারীদের সঙ্গে এমন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে মান্নান । আশা করছি, আইনের মাধ্যমেই সুবিচার পাবো। আর কাউকে যেন জিম্মি না করে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, যে কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই নিম্নস্তরের কর্মচারী ছিলেন। ১০ থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে বেতন পেতেন তারা সবাই।
নিয়োগের সময় শর্ত অনুসারে, নিয়োগপ্রাপ্ত ও একজন নমিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকের একটি করে পাতা জামানত হিসেবে প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার বিধান রয়েছে। চাকরি ছাড়ার পর সেই চেকের সূত্র ধরেই প্রত্যেকের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয় টাকা দেওয়ার জন্য। আর কয়েক দফা নোটিশ দেওয়ার পরে করা হয় মামলা।
এ প্রতারণার শিকার আরেকজন সেলিম মিয়া। মাত্র ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরিতে ঢুকেছিলেন এই কোম্পানিতে। সর্বশেষ কোম্পানির ডেলিভারিম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের।
তিনি বলেন, ‘চার বছর চাকরি করে সর্বসাফল্যে ৫ লাখ টাকাও বেতন পাইনি; কিন্তু এখন মামলা দিয়েছে ৪৫ লাখ টাকার। চাকরিতে ঢোকার সময় আমার এবং নমিনি হিসেবে শ্বশুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক জমা দিয়েছিলাম। শ্বশুরের বিরুদ্ধেও ২১ লাখ টাকার মামলা দিয়েছে। আমার পরিবার এখন দিশেহারা। ’
ভেজাল ঘি ও নকল মোবিল কোম্পানির মালিক মান্নান এর কাছে প্রতারণার শিকার এমন অনেকেই রয়েছেন। আরেকজন ভুক্তভোগী মিলন বলেন, মামলা খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। অথচ অল্প বেতনে চাকরি করতাম। সারা দেশে শত শত অসহায় কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে দিয়েছে ও আরো ভুক্তভুগী তার কাছে জিম্মি আছে তার ভয়ে কথা বলতে পারে না। লক্ষীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মান্নান ছিলেন , জুলাই আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণ হামলা, নির্যাতন ও মামলার স্বীকার তার কাছে । আমরা সরকারের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করছি।বিগত স্বৈরাচার সরকার এর প্রশাসন কে ব্যাবহার করে তার এই স্বৈরাচারী রাজত্ব কায়েম করত।আর কেউ যেন তার প্রতারনার ফাঁদে না পড়ে ও প্রশাসন এর কাছে আকুল আবেদন তার বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যাবস্থার জোরদার দাবী জানাচ্ছি।