
নিজস্ব প্রতিনিধি- নারায়ণগঞ্জ জেলা ফতুল্লা থানাধীন পাগলা’র নয়ামাটি রোকন মেম্বারের গলির বাসিন্দা ও তিতুমীর কলেজ এ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আবুল হোসেনের পুত্র অর্থলোভী লম্পট ও প্রতারক আবির হাসান(২৪) প্রেমের মায়াজালের ফাঁদে ফেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ছদ্মনাম ইভা(৩৬) এ-র সর্বস্ব লুটে নিয়ে প্রতারনা করেছেন এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে ইভা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিগত ০৯-০৮-২০২৫ তারিখে কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। যাহার মামলা নং- ২৬। এই মামলা মহামান্য আদালতে চলমান থাকাঅবন্থায় আবির আপোশ মিমাংসার কথা বলে গত ২৩-১১-২০২৫ ইং তারিখে ইভাকে পাগলায় ডেকে এনে মারধোর করে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করেন। ইভা এই ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার সাধারণ ডায়েরি নং ১৮৮১। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়ে জড়িত থাকা ব্যক্তি হিসেবে আবির হাসান ও শামীমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন বলেও জানা যায়।
ভুক্তভোগী ইভা তার বক্তব্যে বলেন, আবিরের সাথে আমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এর মাধ্যমে পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সুত্রধরে আবিরের সাথে দেখা সাক্ষাৎ কথা চলতে থাকে। আমার ১৭ বছরের সংসার জীবন। বিগত ২ বছর যাবৎ তেমন সুখের ছিলো না। স্বামী আমাকে অবহেলার চোখে দেখতো এ বিষয় গুলো আবিরের সাথে বলাবলি করি। আমার এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে আবির আমাকে সুন্দর সুখের জীবন গড়ে দিবে বলে স্বপ্ন দেখায়।আমি তার কথা বিশ্বাস করি এবং অন্ধহয়ে যাই । সে যখন যা বলতো আমি তাই করতে থাকি। সে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক শুরু করে। আমি তার এই অনৈতিক কাজে বাঁধা দিলে সে আমাকে সংসার ত্যাগ করে তার কাছে চলে আসতে বলে এবং আমাকে বিয়ে করে সুখের সংসার জীবন কাটাবে বলে প্রস্তাব দেয়। আমি তার কথা মতো আমার স্বামীর নিকট আমার জমানো প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ও ঘরে থাকা ৬ লক্ষ টাকা এবং আমার সারে সাত ভরি স্বর্ণ অলঙ্কার যাহার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা নিয়ে পূর্বের সংসার ত্যাগ করে চলে আসি এবং টাকা ও স্বর্ণ আবিরের নিকট বুজিয়ে দেই। সে আমাকে দিয়ে একটি ভাড়াফ্র্যাটে উঠে। আমার দেয়া টাকা নিয়ে আবির বলে এই টাকা দিয়ে একটি জমি ক্রয় করবে এবং সেখানে আমরা সংসার জীবন সুখে কাটাবো। কিন্তু আবির আমাকে বিয়ে না করে আমার সাথে পূনরায় শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে গেলে আমি বাধা দেই এবং বিয়ের জন্য বলি। সে আমার কথা না শুনে জোরপূর্বক আমাকে একাধিক বার ধর্ষণ করে।সে বাড়িতে আমরা স্বামী স্ত্রী হিসেবে বাসা ভাড়া নিয়েছিলাম। তার কাছে চলে যাবার পর থেকে আবিরের আচরণ বদলাতে থাকে এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ে না করে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার শুরু করে। আবির আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে আমার টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে এখন আমাকে তার জীবন থেকে চলে যেতে বলে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে আইনী ভাবে ন্যায় বিচার পেতে মামলা করি। এই মামলার জন্য সে হিংস্র হয়ে আমাকে আপোষ মিমাংসার কথা বলে পাগলা তার বাড়িতে এনে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। সে আমাকে প্রেমের মায়াজালে ফেলে আমার সাথে বিয়ের নাটক সাজিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে সেই সাথে টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার কৌশলে নিয়ে আত্মসাৎ করে এখন আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
আমি চাই প্রতারক ও লম্পট অর্থলোভী আবিরের শাস্তি। আমি আইনের কাছে ন্যায় বিচারে যেমন গিয়েছি তেমনি তার কলেজেও ধর্ষণের বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেছি। সে তিতুমীর কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে আমি এখন ঘরসংসার ত্যাগ করে পরিবার পরিজন থেকে গৃহহারা হয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। লজ্জায় কারো কাছে যেতে পারিনা।
আমি আইনী ভাবে সহযোগিতা কামনা করি আবির যেনো কোন ভাবেই আইনের চোখে ধুলো দিয়ে মুক্তি পেতে না পারে তারজন্য এই গণমাধ্যমর মাধ্যমে ন্যায় বিচারে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।