শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা, প্রাথমিক দলের দুজন বাদ ‘দুই বাচ্চার মা’ বলে দেবের মন্তব্য, ধুয়ে দিলেন শুভশ্রী বিহারে ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিসহ বিদেশিদের নাম, ৩ লাখ ভোটারকে নোটিশ চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় জুলাই সনদ: স্বাক্ষর করা নিয়ে সংশয় বাম দলগুলোর সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে শরীয়তপুরে বিএনপি নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা পিরোজপুর ইউনিয়নে ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ বন্দরে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নির্বাচন এদেশের মানুষের মুক্তি এবং কল্যাণের পথ নয় : মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম

চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় জুলাই সনদ: স্বাক্ষর করা নিয়ে সংশয় বাম দলগুলোর

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১২.০০ পিএম
  • ১ বার পড়া হয়েছে

যেকোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে জুলাই জাতীয় সনদ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরেক দফা বৈঠকের পর শিগগিরই এ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে এতে সই করা বা না করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বিএনপি বা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা বাম দলগুলো। এসব দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ (মার্কসবাদী)।

অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা জুলাই সনদ মেনে নিয়েছে। তবে বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি প্রশ্নে ছাড় দিতে নারাজ। বাম দলগুলোর নেতারা মনে করেন, বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ জড়িত। সে অনুযায়ী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঠানো খসড়ায় আলাদা আলাদা সংশোধনী পাঠিয়েছে দলগুলো। নেতাদের ভাষ্য— বল এখন সরকারের কোর্টে। প্রস্তাব রাখা না রাখা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। অবশ্য এ প্রশ্নে এর আগে গত ৩১ জুলাই কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠক বর্জন করেছেন এসব দলের নেতারা।

অপরদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও সনদকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়ার বিপক্ষে রয়েছেন তারা।

যেসব বিষয়ে মূল আপত্তি

বিদ্যমান সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের পরিবর্তে সাম্য , মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রাখার প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। শুরুতেই এর বিরোধিতা করে আসছে কমিশনের সংলাপে অংশগ্রহণকারী চারটি বাম দল। তারা বলছে, চারটি মূলনীতি সমুন্নত রেখে কমিশনের প্রস্তাবগুলো সংযোজন করা যেতে পারে। কিন্তু মূলনীতির প্রশ্নে বাহাত্তরের সংবিধানে হাত দেওয়ার সুযোগ নেই।

আরও যেসব বিষয়ে ভিন্নমত

জুলাই সনদের পটভূমিতে পাকিস্তানের জন্ম, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ও জাতীয়তাবাদের উল্লেখ অসম্পূর্ণ এবং একপেশে বলে অভিযোগ দলগুলোর নেতাদের। অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধানের চার মূলনীতির কথাও এতে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ইতিহাস ৫২, ৫৮, ৬৬ সালের আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের কথা যথাযথভাবে লেখা হয়নি।

এছাড়া সংবিধান সংশোধনে গণভোট ৭ (ক), ৭(খ), ১৫০(২), ৬ষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল বিলুপ্তি ও সংবিধানে না রাখা, নারী আসন বিষয়ক প্রস্তাব এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের বিপক্ষে বাম দলগুলো।

এসব বিষয় আলোচনার বাইরে রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছে তারা। নোট অব ডিসেন্ট দিয়েও ঐকমত্য চান না নেতারা।

এর বাইরেও আইনসভা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন অধ্যায়ে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলোতেও তাদের মত নেই বলে জানিয়েছেন বাম দলগুলোর একাধিক নেতা।

আইনি ভিত্তি নিয়ে অমত

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি চায় না বাম দলগুলো। তারা মনে করে, এর বৈধতা দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার নির্বাচিত জাতীয় সংসদের।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমে আমাদের কাছে পাঠানো খসড়ায় দেখলাম— সংবিধান সংশোধন বিষয়ক পরামর্শ আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করবে জাতীয় সংসদ। এতে আমাদের কোনও আপত্তি ছিল না।

অথচ দ্বিতীয়বার এমনভাবে খসড়া লেখা হয়েছে, তাতে মনে হয়— বর্তমান সরকারকে দিয়েই এসব কাজ সম্পন্ন করা হবে। আমরা মনে করি, এটি কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সংবিধান সংশোধনের অধিকার রয়েছে একমাত্র নির্বাচিত সংসদের। এ বিষয়ে খসড়া সংশোধনী আমরা কমিশনকে পাঠিয়েছি। দেখা যাক কী ব্যাখ্যা আসে।’

সংবিধানের ওপরে নয় জুলাই সনদ

জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে— একমত হওয়া পরামর্শগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ‘জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বিধান প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক-আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে। তাই এর বৈধতার প্রয়োজনীয়তা, কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।

বাম দলগুলোর মতে, এটি চরম অগ্রহণযোগ্য প্রস্তাব। এটি সনদকেই অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়টি একেবারেই বাদ দেওয়া জরুরি। কারণ, এ ধরনের প্রস্তাব ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরিপন্থি। আদালতে অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়ার এখতিয়ার কমিশনের নেই। আর সংবিধান পুনর্লিখন শব্দটিও রাখা যাবে না।’

সংলাপ বর্জন ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পদাধিকার বলে তিনি কমিশনের সভাপতি। তবে প্রথম বৈঠকের পর গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রতিটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো বাম দলগুলোর নেতারাও সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে সব বৈঠকে অংশগ্রহণ করে নিজেদের মতামত দেয়। তবে শেষ দিনে সংবিধানের চার মূলনীতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বের হয়ে যান বাম রাজনীতিকরা।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, একটি পক্ষকে খুশি করতে কমিশন মুক্তিযুদ্ধের সনদ ৭২-এর সংবিধানে হাত দিতে চায়। নেতারা বলেন, আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য—সংবিধানের এ অংশে হাত দেওয়া যাবে না। তখন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছিলেন, অনেক বিষয়ে আপত্তি থাকলেও ঐকমত্যের স্বার্থে মেনে নিয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপক্ষে কোনও কিছু আমরা মানবো না।

সেদিনের বৈঠক বর্জন করার পর এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানান তারা। এ নিয়ে তাদের কিছু অসন্তোষও রয়েছে। নেতারা মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে মেইল পাঠালেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে খোলাসা করেনি কমিশন। তাই মূলনীতি নিয়ে এক ধরনের শঙ্কার জায়গা রয়েছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, শেষ দিনে আমরা সংলাপ বর্জন করে আসার পর এখন পর্যন্ত কমিশন বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এটি দুঃখজনক। তাই সনদ নিয়ে কী হতে যাচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। তবে খসড়ায় আমরা আমাদের মতামত পুনর্ব্যক্ত করেছি।

চূড়ান্ত সনদে স্বাক্ষর করা নিয়ে নেতাদের বক্তব্য

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত বছরের ৫ অক্টোবর ও চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সব বিষয়ে ঐকমত্য হলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এখন কিছু বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে। এর দায় কমিশনকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের চার মূলনীতি বাতিল করলে সনদে সই করার প্রশ্নই ওঠে না।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে একমত হওয়া যায় না। এগুলো চাপিয়েও দেওয়ার বিষয় নয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই একমত হয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে কোনও ছাড় দেওয়ার পক্ষে নই। কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টেও সমাধান হবে না। এ কথাগুলো বারবার বললেও কমিশন শোনেনি। আমরা মনে করি, জুলাই সনদ অবশ্যই হওয়া দরকার। তবে মূলনীতি প্রশ্নে আপস নেই। এটা আমরা জানিয়ে দিয়েছে। বল এখন সরকারের কোটে।

শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, সংবিধানের চার মূলনীতির বিষয়টি আলোচনায় রাখা যাবে না। নোট অব ডিসেন্টও রাখার সুযোগ নেই। কোনোভাবে বাতিলের চেষ্টা করলে আমরা স্বাক্ষর করবো না।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, সনদে ধর্মনিরপেক্ষ, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। আমাদের আপত্তিগুলো সংযুক্ত করা হয়নি। আমরা চাই, শুধুমাত্র যে বিষয়গুলোতে সবাই একমত হয়েছে, সনদে শুধু সেসব বিষয় সন্নিবেশ হবে। তিনি বলেন, আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে চাই। তবে আপত্তির বিষয়গুলো অবশ্যই নজরে আনতে হবে কমিশনকে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort